সত্যের খোঁজে নির্ভূল অনুসন্ধানী

আখাউড়ায় জনসভায় আইন মন্ত্রী বলেন, আইন জিয়াউর রহমানের গতিতে চলবে না

0

আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় এক জনসভায় আইন মন্ত্রী বলেন, মানবিকতা আন্দোলনের মাধ্যমে কামাই করা যায় না। আর আইন আইনের গতিতে চলবে। আইন জিয়াউর রহমানের গতিতে চলবে না।’ বিএনপি চেয়ার পার্সন খালেদা জিয়াকে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা বলেছেন।

তিনি শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে আখাউড়ায় সিরাজুল হক পৌর মুক্ত মঞ্চে শীতার্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় এ কথাগুলো বলেন।এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা হয়তো শুনে থাকেন, দোকানে, রাস্তাঘাটে, খালেদা জিয়া অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। না হলে আন্দোলন হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই সত্য জানার পরও খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিন পালন করেন জাতির এই শোকের দিনে। ১৯৯৬ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে জনগনের আস্তাহীন ভোটে তিনি (খালেদা জিয়া) একটি সংসদ বানিয়েছিলেন। সেই সংসদে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি আব্দুর রশিদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রেী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বাসায় গেলেন। সেদিন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। জননেত্রীকে বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নয় সমগ্র বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছিল। তারপরও শেখ হাসিনা গত বছরের ২০ কি ২১ মার্চ আমাকে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি জেল খানায় আছেন। তার পরিবার একটা দরখাস্ত দিয়েছে তুমি আইনের মারফত তাকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা কর। দুইটা শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাকে জেল থেকে বাইরে আনার সিদ্ধান্ত হয়। একটি হলো ওনি (খালেদা জিয়া) বিদেশ যেতে পারবে না। আরেকটা হলো তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিবেন। এমন বলি নাই, তিনি হাসপাতালে যেতে পারবে না। তিনি হাসপাতালে গেছেন একাধিকবার, সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাকে বিচারিক আদালত সাজা দিয়েছে পাঁচ বছর। আপিল করার পর হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে করেছে দশ বছর। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছে, দুস্থদের টাকাও আত্মসাৎ করেছে। সেই মামলায় আদালত কর্তৃক তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। এত কিছুর পরে, মানবিক কারণে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দন্ডাদেশ স্থগিত রেখে উনাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দাঁড়াইতে দিলে বইতে চাই, বইতে দিলে শুইতে চাই, আর শুইতে দিলে ঘুমাইতে চাই। এখন অবস্থা হইছে এই রকম। এখন বিদেশে যাইতে দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটা আইনে কোন দরখাস্ত যদি নিস্পত্তি হয়ে থাকে- সেই নিস্পত্তিকৃত দরখাস্ত আবার পুনঃবিবেচনা করার কোন সুযোগ থাকে না। তার পরেও আমি দুই দুইবার উনার বিদেশ যাওয়ার আবেদন আইনমন্ত্রণালে নাকচ করেছি। আপনারা দেখেছেন, শুনেছেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে ওনার পক্ষে ১৫ জন আইনজীবী আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আমি যে আইনের কথা বলেছি এবং যে আইনে আগের আবেদন নাকচ করেছি, তা সঠিক। তার পরও ওনারা যা বলেছেন, তার কোথাও কোন নজির আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে সময় নিয়েছি। আর ওনারা সেই সময় নেওয়াকে দেখে বলছেন, আন্দোলন করবেন। এক দফা এক দাবি। মানবিকতা আন্দোলনের মাধ্যমে কামাই করা যায় না। আইন আইনের গতিতে চলবে। আইন জিয়াউর রহমানের গতিতে চলবে না। আইন আপনাদের (বিএনপি) গতিতেও চলবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে বলেন, আইনমন্ত্রী।

পরে মন্ত্রী আখাউড়ার পাঁচশ শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ ভূইয়া বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আইন সচিব গোলাম সারোয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ- দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুল রহমান, ইউএনও রুমানা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন প্রমূখ। এর আগে মন্ত্রী ট্রেনে করে আখাউড়ায় আসেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.