একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগ্রামী আওয়ামীলীগ নেতা এ.জে.এম মহসীন জাহাঙ্গীর!

0 ১২৫

আব্দুল খালেক সীতাকুণ্ডঃ
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগর চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের কথা উঠলেই যার কথা আলোচনা উঠে আসে তিনি সেই ত্যাগী নেতা , কর্মীবান্ধব ও সীতাকুণ্ড উপজেলা তথা বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রিয় নেতা এ জে এম মহসিন জাহাঙ্গীর।যার পুরো নাম আবু জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ মহসীন। পিতাঃ মৃত মফিজুর রহমান। তিনি ইংরেজি ১৯৫৬ সালের, ৫ ই মার্চ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার ৫নং বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের উত্তর মাহমুদাবাদ গ্রামে খুশির বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন এই মহান ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত। সংক্ষেপে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাঃ
১৯৬৯ এর আন্দোলনঃ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলনের সময় মহসিন জাহাঙ্গীর বাড়বকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং গণ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধঃ
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন অপারেশন করে হানাদার বাহিনীকে পিচু হটাতে বাধ্য করেন।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদঃ১৯৭৫ সালে ১৫ ই আগষ্ট এর বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের পরে চট্টগ্রামে মরহুম মৌলভী সৈয়দ আহাম্মদ সাহেবের নেতৃত্বে প্রতিরোধ কাজে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ভারত চলে যান। সেখানে সশস্ত্র প্রতিরোধ করার জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের সু-সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত হলে ওনাকে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়। এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অপারেশন করে বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় স্থান করে ব্যাপক পরিচিত লাভ করে।১৯৭৭ সালে গ্রেফতার মহসিন জাহাঙ্গীরঃ১৯৭৭ সালের ৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়াম মেলায় অপারেশন করতে গিয়ে চট্রগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় হাতেনাতে গ্রেনেডসহ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ধরা পড়ে যান। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি দীর্ঘ ৬(ছয়) বছর কারাগারে জীবন কাটান। এবং তৎকালীন সামরিক বাহিনীর সরকার ঐ হামলা মামলায় মহসিন জাহাঙ্গীরকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।এরশাদ সরকারের সময় আন্দোলন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি এলাকায় আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী জনগনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।তখন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা STANDARD BANK এর চেয়ারম্যানের বাসায় উঠেছিলেন এবং চট্টগ্রাম এর ৭( সাত) টি থানায় জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন জাতীয় পার্টির সশস্ত্র ক্যাডারেরা সভানেত্রীর উক্ত জনসভা করতে দেবে না মর্মে ঘোষণা দেয়। জনসভার একদিন পূর্বে তিনি নিজের দলীয় লোকদের নিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাদেরকে প্রতিহত করেন এবং উক্ত জনসভা সফল করেন।
১৯৯১-১৯৯৬ এর অসহযোগ আন্দোলনঃ১৯৯১-১৯৯৬ সালে মহসিন জাহাঙ্গীরের কারিশমাটিক ভূমিকায় সীতাকুণ্ড তথা সমগ্র চট্টগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সফলতার সহিত এগিয়ে যান। সীতাকুণ্ডকে আওয়ামী লীগের দূর্গ তৈরির পেছনে এই ক্রাইসিস ম্যানেজার খ্যাত এ জে এম মহসিন জাহাঙ্গীর এর ভূমিকা অপরিসীম। শ্রমিক নেতৃত্বঃ
দীর্ঘ ২৩ বছর সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শ্রমজীবি মানুষের অন্তরের অন্তস্তল দখল করে নেন।পরপর ২ মেয়াদে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে চেয়ারম্যানঃ
জনগণের ভালোবাসায় ও তাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৮ বছর বাড়বকুন্ড ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।মহসিন জাহাঙ্গীরকে হত্যার ষড়যন্ত্রঃ চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় অপারেশন ক্লিনহার্ট এর সময় ওনাকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি ৩ মাস এর জন্যে দেশের বাহিরে চলে যেতে বাধ্য হন। বি,এন,পি -র আমলে র‍্যাব ওনাকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি ভারতে ৩ বছর অবস্থান করেন।১৯৭৫ পরবর্তীতে চট্টগ্রামে প্রয়াত মরহুম আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।পরবর্তীতে সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ এর সভাপতি মরহুম এ.বি.এম. মহি উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্দোলন করেন।বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন সাহেবের সার্বিক সহযোগীতায় রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন।তরুণ প্রজন্মের আওয়ামীলীগে যোগঃওনার সততা ও সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনে মুগ্ধ হয়ে অনেক তরুণ নেতার আবির্ভাব ঘঠে। আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় এই মহান নেতার হাত ধরে। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি ওনার দেখানো পথে চলতে। তাইতো ২০০৪ সালের ২১ এ আগষ্ট এর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাধে সীতাকুন্ডের রাজপথে নামতে পিছ পা হইনি।২০০৬-২০০৮ সালে তার ভূমিকাঃ২০০৬- ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন জাহাঙ্গীর অনন্য ভূমিকার কারনে সেনাসমর্থিত সরকারের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।

বর্তমানে এ জে এম মহসিন জাহাঙ্গীর বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক হিসাবে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অবিভাবকের দায়িত্ব পালন করতেছে এছাড়া ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জন্য মমনোনীত হয়ে আছেন।
আগামী ইউপি নির্বাচনে সীতাকুণ্ড উপজেলার ৫ নং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নবাসী এ জে এম মহসিন জাহাঙ্গীরকে আবার ও ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.