চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ।

0 ১০৭

রিয়াদুল মামুন সোহাগঃ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ।বাংলাদেশের সীমানার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।এই সাগরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা।বিশাল এই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উপার্জনের অন্যতম আশ্রয়স্থলকে কণ্টকাকীর্ণ করে রাখে কিছু অস্ত্রধারী বিপথগামী জলদস্যু।জলদস্যু দমনে সকারের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে র‌্যাব সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।র‌্যাবের কঠোর ভূমিকায় ইতিমধ্যে সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আত্মসমর্পণ করে।

এর ফলে ০১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে র‌্যাবের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে এই অঞ্চলের ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে।এর ফলে এই অঞ্চলে জলদস্যুতার ঘটনা কমে যায়।আজকের জলস্যুর আত্মসমর্পণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চল জলদস্যুমুক্ত হবার পথে অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।ফলশ্রুতিতে এই অঞ্চলের সাগর কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরো বেগবান হবে।

বাঁশখালী,মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রæপের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে।আর এই জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরকে দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে এসব এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা।চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন,দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন ২০০৪ সাল হতে অদ্যবধি র‌্যাব-৭, বাঁশখালী,মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ২৪৮ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে এবং দেশী-বিদেশী সর্বমোট ৭৯৭ টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ ৮,৮৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এছাড়াও ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর ৪৩ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। ফলে বাঁশখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

এসব জলদস্যু প্রবণ জায়গায় র‌্যাবের অবিরাম টহল এবং দৃঢ় মনোভাবের ফলে জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গুলো কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এছাড়া র‌্যাব-৭ এর ক্রমাগত অভিযান,অতি সক্রিয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে জলদস্যুদের কর্মকান্ড পরিচালনা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে।এসব কারনে জলদস্যুরা স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের কাছে থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পন করার ইচ্ছা পোষণ করে।

ইতিপূর্বে র‌্যাব-৭ এর তত্ত্বাবধানে আত্মসমর্পণ,র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পূর্নবাসন প্রক্রিয়াও তাদেরকে অনুপ্রানিত করে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করানো ছিল যুগান্তকারী ঘটনা।

২০ অক্টোবর ২০১৮ সালে মহেশখালী আত্মসমর্পণের পর উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।ফলে বাঁশখালী,মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের জলদস্যুরা তাদের দস্যু জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উৎসাহী হয়।এ প্রেক্ষিতে র‌্যাব তাদের জন্য আজকের এই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে বিনা শর্তে উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুরা আত্মসমপর্ণ করছে।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বাঁশখালী,মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অন্যতম সু-সংগঠিত,ভয়ংকর দুর্র্ধষ ও সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী।এসব বাহিনীর সকল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সদলবলে র‌্যাব-৭ এর নিকট আত্মসমর্পণ এর ফলে বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুবৃত্তিতে নিয়োজিত অন্যান্য জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দারুণ ভাবে উৎসাহিত হবে বলে আমরা মনে করি।বাঁশখালী,মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের জলদস্যু/অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার করার লক্ষে র‌্যাব-৭ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.