ধলই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর উপর আক্রমণকারী মূল হোতাসহ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭

0 ৫১০,৩৮০

গত ১৫ই আগস্ট কতিপয় দুস্কৃতিকারী কর্তৃক চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন ধলই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভাংচুর এবং চেয়ারম্যান এর উপর আক্রমণকারী মূল হোতাসহ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম।

“বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব)প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জোড়ালো ভূমিকা পালন করে আসছে।র‌্যাব সৃষ্টিকাল থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী,ডাকাত,ধর্ষক,দুর্ধষ চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসী,খুনি,ছিনতাইকারী,অপহরণকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র,গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগনের মনে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

গত ১৫ই আগস্ট সকাল ১০টা ৩০মিনিটে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন ধলই এলাকায় কতিপয় বখাটে যুবক একটি ছাত্রীকে উত্যাক্ত করলে স্কুল ছাত্রীর পিতা ও ভাই বিষয়টি হাটহাজারী থানাধীন ধলই ইউনিয়নের চেয়াম্যান আবুল মনসুর(৪৯)কে জানালে তিনি তাদেরকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেন।

এতে বখাটে যুবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ঐদিন ১২টা ৪০মিনিটের সময় দা,লাঠি,লোহার রড,দামা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে ও দাঙ্গার সাজে সজ্জিত হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে ধলই ইউনিয়ন পরিষদে অনধিকার প্রবেশ করে আকষ্মিক পরিষদের জানালা কাচের গ্লাস পাথর ছুড়ে ভাংচুর ও চেয়ারম্যান আবুল মনসুরকে হত্যার চেষ্ঠা করে।

এছাড়াও দুস্কৃতিকারীরা অফিস কক্ষ ও গ্রাম আদালত কক্ষে হামলা করে এবং ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আবুল মনসুর ইউনিয়ন পরিষদ রক্ষার লক্ষ্যে হামলাকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্ঠা করলে হামলাকারীরা তাকে নানারকম প্রাণ নাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মারধর শুরু করে।

হামলাকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের দরজা,জানালার কাঁচ,আসবাবপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে অনুমান ৬৫,০০০/- টাকার ক্ষতিসাধন করে।পরবর্তীতে পুলিশের টহল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ধলই ইউনিয়নের চেয়াম্যান আবুল মনসুর বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় ০৭জন নামে এবং অজ্ঞাতনামা ৮০/৯০জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং ২৪ তারিখ-১৫ আগস্ট ২০২২ ইং ধারা- ১৪৩/ ১৪৭/ ১৪৮/ ৪৪৭/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩০৭/ ৪২৭/৫০৬ পেনাল কোড।

ইউনিয়ন পরিষদে বেআইনী জনতাবদ্ধে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চেয়ারম্যানকে মারপিট এবং ভাংচুরের মাধ্যমে সরকারী সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।এ প্রেক্ষিতে উক্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম গোয়েন্দা নজরধারী অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে গত ২২শে আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন শাহ-নগর এলাকা হতে উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এবং এজাহারকৃত ১নং আসামী চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার পশ্চিম ধলই পাড়ার মৃত ইসলামের পুত্র আজিজুল হক আজিজ(৪৫), পিতা, মৃত ইসলাম,৩নং আসামী চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার ফরহাদাবাদের মৃত বাদশা আলমের পুত্র নাজিম উদ্দিন ফরিদ,৪নং আসামী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পূর্ব ধলই পাড়ার খায়রুল বশারের পুত্র সালাউদ্দিন চৌধুরী মুন্না(৩২)কে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীরা উপরোক্ত ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল বলে স্বীকার করে।

উল্লেখ্য,সিডিএমএস পর্যালোচনা করে হাটহাজারী থানায় ধৃত আসামী আজিজুল এর বিরুদ্ধে ০১টি,ধৃত আসামী নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ০২টি এবং ধৃত আসামী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ০১টি মামলা পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.