সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কঠোর অবস্থান,সন্দ্বীপে না গিয়ে শহরে ফেরত বিএনপি নেতারা।

0 ২০০,২২৪

সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের কঠোর অবস্থানের কারণে সন্দ্বীপে যেতে পারেননি বিএনপি নেতারা।জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ মিছিল সফল করতে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্য গতকাল ২৬শে আগষ্ট শুক্রবার ভোরে কুমিরা ঘাটে স্পীডবোটের টিকেট নিয়েও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলার ৫ নেতা সন্দ্বীপ যেতে পারেননি। কিন্তু সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে এর আগে থেকে ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের মুখে সকাল ১০টার দিকে সেই টিকিট ফেরত দিয়ে ঘাট ছাড়েন তারা।

জানা যায়,আগামী ২৮শে আগস্ট সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ সফল করতে গতকাল সন্দ্বীপ যাওয়ার কথা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তরিকুল আলম তেনজিং ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের।

এই জন্যই গতকাল ভোর ৬ টার দিকে তারা কুমিরা ঘাটে যান।এসময় তাদের সাথে আরও ৩ জন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।সেখানে তারা স্পীডবোটের ৫টি টিকেট সংগ্রহ করেন।অন্যদিকে একই সময়ে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী গুপ্তছড়া ঘাটে অবস্থান নেন।এই খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত কুমিরা ঘাটে অপেক্ষা করেন বিএনপি নেতারা।পরে সাড়ে ১০ টায় তারা টিকেট ফিরিয়ে দিয়ে শহরে ফিরে যান।

কুমিরা ঘাটে থাকা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত তালুকদার বলেন,আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চাই কোন সংঘাত চাই না।ঘাটে যারা এসেছিলো তারা ক্ষুদ্ধ ছিলো।আমরা গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাত হবে মনে করেই ঘাট থেকে ফিরে এসেছি।

তবে নেতারা ফিরে এলেও ২৮ তারিখের মিছিল ও সমাবেশ বাস্তবায়ন হবে জানিয়ে শওকত তালুকদার বলেন,আমাদের প্রোগ্রাম ২৮ তারিখ সেদিন প্রোগ্রাম হবেই।উপজেলা বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদলের কমিটি আছে তারাই কর্মসূচি সফল করবে।তবে আমরা স্পষ্ট করেছি আমরা সংঘাত এড়াতে চাই।

এই বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন বলেন,বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্ত সন্দ্বীপকে অশান্ত করতে চায়।এর আগেও তারা আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। তাই আমরা তাদের কর্মসূচি প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর।কারণ বিএনপি মুখে যাই বলুক তাদের রাজনীতির ধরন কী সেটা সকলেই জানে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সামি উদ দৌলা সীমান্ত বলেন,বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে।এখানে তাদের দুইটি গ্রুপ।এক গ্রুপের দখলে উপজেলার সব কমিটি।অন্য গ্রুপকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি সফল করতে।এই দ্বন্দ্বের কারণেই তারা আসেনি।তাদের রিসিভ করতে বিএনপির স্থানীয় কোন নেতাকর্মী ঘাটের আশপাশেও আসেনি।

তবে এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন শাহীন বলেন,বিএনপিতে কোন দ্বন্দ্ব নাই।আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে কাজ করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.