সত্যের খোঁজে নির্ভূল অনুসন্ধানী

‘সবার সম্পৃক্ততা,চেষ্টা ও অবদানের ফল এই অবিস্মরণীয় জয়’

0

ফরম্যাট ভিন্ন,তারপরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খাবি খাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ।যে মাটিতে শুধুই হার সঙ্গী।একটি ম্যাচ ড্র করারও নজির নেই। সেখানে আরেকটি টেস্ট খেলার আগে দলের জন্য তার বার্তা কী ছিল?সেটি এই টেস্টের প্রথম দিনই জানা হয়ে গেছে।ভিডিওবার্তায় খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন,‘আমি একটি কথাই বলেছি জোর দিয়ে, আমরা আর কত হারবো?কোনো না কোনো গ্রুপকে তো হাত তুলতে হবে যে আমরা পারি।আমরা পারবো।’

এখন টিম ডিরেক্টর খুব খুশি, কারণ ছেলেরা তা করে দেখিয়েছে।তার ভাষায়,‘সেটাই বড় স্বার্থকতা।দারুণ ফাইট করেছে পুরো দল।বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে।খুব বেশি ডেডিকেটেড ছিল ভাল কিছু করার জন্য।কম বেশি সব সময়ই থাকে।ভাল খেলার ইচ্ছেও কম বেশি থাকে।কিন্তু এবারের মানে এই দলটির কি এমন বেশি ছিল যে এত বড় সাফল্য ধরা দিলো?

এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন অনেক কথার ভিড়ে জানিয়েছেন,‘অনুশীলনের ধরন, বাড়তি সময় নিয়ে অনুশীলন করা,বাড়তি শ্রম ও ঘাম ঝড়ানো এবং সর্বোপরি স্বস্তিদায়ক অনুশীলনের বদলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে অনুশীলন করেছে ছেলেরা।সাধারণত যা কম হয়।’

সেটি কেমন?উত্তরে তিনি বলেন,‘আমি সবসময়ই বাংলাদেশের অনুশীলন ফলো করি।এবার ওদের দেখে ভালো লেগেছে।তারা জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছে।সামর্থ্যের সবটুকু উজার করে দিয়েছে।এবারের অনুশীলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল,ছেলেরা কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে ট্রেনিং করেছে।

‘দেখা যায় অন্য সময় যার যেটা প্রিয় শট,যে যে জায়গায় ভালো খেলে, সেগুলো নিয়েই কাজ করে বেশি।দূর্বলতা,নিয়ে কাজ হয় কম।এবার সবাই নিউজিল্যান্ডে সেই কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে প্র্যাকটিস করেছে।ব্যাটাররা প্রচুর বল ছাড়ার অভ্যাস করেছে, শর্ট বলে ক্রমাগত সবাই প্র্যাকটিস করেছে।’‘প্রায় প্রতিদিন সব ব্যাটার শর্ট বল ও বাউন্সারের বিপক্ষে অনুশীলন করেছে। বোলাররাও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে কোন লাইন ও লেন্থ কার্যকর- তা নিয়ে কাজ করেছে।ব্যাটিংয়ে অনেক সময় দিয়েছে, বোলাররা লেন্থ পাল্টেছে।আমরা বাংলাদেশে যে লেন্থে বল করে সফল হই,সেটা এখানে কাজ করবে না।এসব বুঝেছে এবং তা নিয়ে কাজও করেছে।সবগুলোই খুব কাজে দিয়েছে।’

শেষ পর্যন্ত এবাদতের ধারালো বোলিংয়ে সাফল্য ধরা দিয়েছে।তবে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন মানতে চান না যে,কারও একার নৈপুণ্যে এ জয়।তার সোজাসাপটা কথা,এ জয় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছোট-বড় মিলে সবার অবদানের ফল।

পুরো দলের প্রশংসা করে বিসিবি পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্টের প্রধান বলেন, এটা কালেক্টিভ এফোর্ট।পুরো দল একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করেছে।যে যেভাবে পেরেছে অবদান রেখেছে।দ্বাদশ ব্যক্তি তাইজুলও কী দারুণ ক্যাচ লুফেছে।সবাই খুব ইনভলবড ছিল।’

সুজন যোগ করেন,‘আমাদের দলে কোন ব্রায়ান লারা-শচিন টেন্ডুলকার নেই।হলে এভাবে দল হয়েই খেলতে হবে।সবার সম্পৃক্ততা থাকতে হবে,যার যার ভূমিকা ও দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে হবে, ছোটখাটো হলেও অবদান রাখতে হবে।মুশফিককে দেখেন,হয়তো প্রথম ইনিংসে শুরু ১২ রান করেছে,কিন্তু অনেকগুলো বল খেলেছে।বলের ঔজ্জ্বল্য কমিয়ে দিয়ে গেছে।যেটা পরে লিটনদের কাজ সহজ করে দিয়েছে।সবকিছুই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভূমিকাকে খাট করে দেখার অবকাশ নেই।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.