তুহিন হত্যার চার্জশিট দিতে বাকি চার দিন,রহস্যে ঘেরা ৪৭ মিনিট।

0 ৯০০,০১৩

গাজীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনা পেরিয়েছে ১২ দিন। চার্জশিট দেওয়ার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হতে বাকি মাত্র চার দিন। এই সময়ের মধ্যেই জবাব খোঁজার চাপে রয়েছে তদন্ত দল, পুলিশ প্রশাসন এবং জিএমপি কমিশনার।

তবে তদন্ত এগোচ্ছে ধীরে, থেকে যাচ্ছে একের পর এক রহস্য ও প্রশ্নবিদ্ধ গাফিলতি। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এখন- গোলাপির হানিট্রাপের শিকার বাদশাকে কোপানো আর তুহিন হত্যাকাণ্ড ঘটনার মাঝখানের রহস্যে ঘেরা ৪৭ মিনিট। সেই সঙ্গে চা দোকানে হামলার সময় ধারণ হওয়া ভিডিও ফুটেজ, ঘটনার পর থেকে চা দোকান বন্ধ, চা দোকানি উধাও, তুহিনের দুটি মোবাইল উদ্ধার না হওয়া।এসব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ।

৭ আগস্ট সন্ধ্যায় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রথমে কোপানো হয় বাদশা মিয়াকে। ঠিক ৪৭ মিনিট পর, সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই মাঝখানের ফাঁকা সময়টাই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন উঠেছে এই সময়টাতে ঘাতকরা কোথায় ছিল? তারা কি পরিকল্পনা সাজাচ্ছিল? নাকি আগে থেকেই সাংবাদিক তুহিন তাদের টার্গেট ছিলেন?

রুহুলের চায়ের দোকান এখন বন্ধ, ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন দোকানি কিন্ত কেন? ঘটনার সময় রক্তাক্ত মারাত্মক জখম আহত তুহিন আশ্রয় নিয়েছিলেন পাশে থাকা রুহুলের চায়ের দোকানে। সেখানেই তাকে শেষবারের মতো কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা।তবে এখন সেই চায়ের দোকান বন্ধ।

স্থানীয়রা জানায়, দোকানি রুহুল এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, এবং তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ তার বক্তব্য নিতে পেড়েছে কীনা সেটা জানা যায়নি।জানা যায়নি অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেয়া হয়েছে কীনা।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,তুহিন ভাই দোকানে ঢুকে সাহায্য চাচ্ছিলেন। তারপর ৫-৬ জন লোক দৌড়ে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। কোপানোর শব্দ আর আর্তচিৎকার… এখনো কানে বাজে। চোখের সামনে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়া যায়না।

চায়ের দোকান ও আশপাশে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ জব্দ করলেও, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে—মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বা অদৃশ্য হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যদি পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা তদন্তে বাধা, এমনকি হত্যাকাণ্ডে পেছনের শক্তিশালী মহলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও দিতে পারে।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত তুহিনের মোবাইল ফোন দুটি এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ স্বীকার করেছে, সেগুলোতেই থাকতে পারে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও বা আগাম হুমকির প্রমাণ।

তদন্ত কর্মকর্তারা নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম মুক্তার কাছে মোবাইলের পাসওয়ার্ড চাইলেও ফোনগুলোর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট নয়।

এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান ও তার স্ত্রী গোলাপি। তবে মূল পরিকল্পনাকারী বা গডফাদারদের কোনো সন্ধান এখনো দিতে পারেনি তদন্ত দল।

বিশ্লেষকরা বলছেন,এটা কেবল সরাসরি খুনিদের ঘটনা নয়—এটা একটি গভীর ষড়যন্ত্র। সাংবাদিক তুহিন কোনো সংবেদনশীল তথ্য পাচ্ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

চার্জশিট না নাটকীয় মোড়?

সাংবাদিক সমাজ জানতে চায় চার্জশিট দেওয়ার প্রতিশ্রুত সময় শেষ হতে চলেছে। আর মাত্র চার দিন,কিন্তু ভিডিও ফুটেজ গায়েব, চা দোকানি পলাতক, মোবাইল নেই, গডফাদার অধরা—এই বাস্তবতায় এখন প্রশ্ন উঠছে, চার্জশিট কি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ হবে?

সাংবাদিক সমাজ বলছে,এই হত্যাকাণ্ড যেন দায়সারা তদন্তে চাপা না পড়ে।তাদের দাবি, প্রকৃত ঘাতক ও নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।তদন্ত শুধু গ্রেফতার নয়, সত্য উন্মোচন জরুরি এই ৪৭ মিনিটের মাঝখান, গায়েব হওয়া ফুটেজ, চা দোকানের হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, মোবাইল নিখোঁজ ও প্রশাসনের সরবতা বা নিরবতা,সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এখন গড়ে উঠছে ভয়ানক এক রহস্যজাল।পরবর্তী পদক্ষেপে পুলিশের কী সিদ্ধান্ত আসে,চার্জশিট জমা হয় নাকি তদন্ত দীর্ঘায়িত হয়,তা জানার জন্য এখন দেশের চোখ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!