সন্দ্বীপে এক সপ্তাহে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা,থানায় অভিযোগ।

0 ১,০০০,০২৫

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় সংবাদকর্মী ইসমাইল হোসেন মনি’র ওপর হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা।তিনি উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বিজয় টিভির সন্দ্বীপ প্রতিনিধি।গত মঙ্গলবার সংবাদ সংগ্রহের কাজে তিনি শিবেরহাট থেকে মোটর সাইকেল যোগে বাড়ী ফেরার পথে মাইটভাঙ্গা দেলোয়ার খাঁ সড়কে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়।

এ সময় তিনি দুর্বৃত্তদের লাঠির আঘাতে আহত হন।সংঘটিত এ হামলায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার সন্দ্বীপ থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। হামলার পর পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

হামলার শিকার সংবাদকর্মী ইসমাঈল হোসেন মনি জানান,সশস্ত্র অবস্থায় প্রায় ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ওই রাতে আমার ওপর হামলা চালায়।আমি এ সময় দ্রুত বাইক চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছি।

অনিয়ম ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কয়েকটি নিউজ করার কারনে এলাকার দুর্বৃত্তরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালাতে পারে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্যমতে,এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়।এর আগেও সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে ঢুকতে বাধা দেওয়া,রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ‘দলীয় দালাল’ বলে অপমান করা,এমনকি থানায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় হয়রানির মুখে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।এমন পরিস্থিতিতে কয়েকজন সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সাংবাদিক নেতারা বলছেন,সাংবাদিকরা কারও কেনা গোলাম নয়।কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক,কিন্তু কাউকে মারধর করা, হুমকি দেওয়া কিংবা অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।”তারা আরও বলেন, “সব সরকারের সময় কিছু পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি থাকেই, যারা সাংবাদিকতার আড়ালে কাজ করেন।তাদের দায় সারা সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।

সাংবাদিক সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন মনে করছে,এভাবে চলতে থাকলে সন্দ্বীপে স্বাধীন সংবাদ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তারা অবিলম্বে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,দোষীদের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইন চার্জ এ.কে. এম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান,আমি অফিসিয়াল কাজে এ মুহুর্তে সন্দ্বীপের বাইরে আছি,অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর ফয়সাল সংবাদকর্মী ইসমাঈল হোসেন মনির ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে,গত সপ্তাহে দৈনিক মানব কণ্ঠ-এর সন্দ্বীপ প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান হামলার শিকার হন।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেনের সন্দ্বীপ সফরের সময় তিনি একটি প্রশ্ন করলে মেয়রের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।তিনি অভিযোগ করেন,সেখান থেকে বের করে দেওয়ার সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়।

এর ঠিক এক সপ্তাহ পরই,২৬ আগস্ট,হামলার শিকার হন বিজয় টিভির সন্দ্বীপ প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন মনি।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত কিংবা আটক করা হয়নি,যা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে।

সাংবাদিক সমাজের এই হামলা সন্দ্বীপবাসীর জন্য কলঙ্কিত করেছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক,দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ও গ্লোবাল টেলিভিশনের সন্দ্বীপ প্রতিনিধি রিয়াদুল মামুন সোহাগ।

এসময় তিনি আরো বলেন,সাংবাদিক কখনো কোন দলের হতে পারে না,যারা জাতির বিবেক হয়ে রাজনৈতিক নেতাদের চামচামি করে তারা সাংবাদিক হতে পারে না।দুই একজনের জন্য ঢালাওভাবে সব সাংবাদিকদের উপর হামলা,নির্যাতন অথবা অপমান করে বিভিন্ন প্রোগ্রাম থেকে বের করে দিতে পারেন না।

কোন সাংবাদিকদের যদি ব্যক্তিগত কোন ঝামেলা অথবা রাজনৈতিক কোন ঝামেলা থেকে থাকে আপনারা আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।আইন তাদের বিচার করবে।কিন্তু এইভাবে সন্দ্বীপের সকল সাংবাদিকদের উপর এমন আচরণ করলে এতে আপনারাই সাংবাদিক শূণ্যতায় পড়বেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!