
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষ এখন শুধুমাত্র সামরিক আঘাতের লড়াই নয়,এটি কৌশল,মজুদ ও আর্থিক সক্ষমতার এক তীব্র পরীক্ষা।ইরানের পুরোনো বিমানবাহিনী সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে অক্ষম,তাই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিহত করছে এই হামলা,কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ফলাফল এবং স্থায়িত্ব নির্ধারণ করছে কার মজুদ গভীর এবং কার কৌশল দীর্ঘমেয়াদি।
গত শনিবার থেকে ইরান ও তার প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলি ১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে,যা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বিস্তৃত করে তুলেছে।ইতিমধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শত শত স্থানে আঘাত করেছে, তবে কোনো বিমান হারানো হয়নি।তেহরানের লক্ষ্য মূলত শত্রুর মনোবল দুর্বল করা,নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং যুদ্ধের খরচ বৃদ্ধি করা।
বিশ্লেষকরা বলছেন,এই যুদ্ধ এখন এক ধরনের ধৈর্য, কৌশল ও খরচের লড়াই,যেখানে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার যুদ্ধের পরবর্তী ধাপকে নির্ধারণ করছে।ইরান ধীরে ধীরে হামলা চালিয়ে মজুদ সংরক্ষণ করছে,আর যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা প্রতিটি আঘাত প্রতিহত করতে ব্যয় করছে বহুগুণ বেশি।
গালফের দেশগুলোও তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী রাখছে।সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের মজুদ পর্যাপ্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় আছে।ইউএই ইতিমধ্যেই ১৬১টি আঘাত ধ্বংস করেছে,৬৪৫টি ইরানি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন,যুদ্ধ দীর্ঘ হলে উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা মজুদ কমে যেতে পারে।ইরান দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারলেও,যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের পুনঃসরবরাহ ধীরে হয়।ফলে যুদ্ধ কেবল সামরিক লড়াই নয়,এটি এখন কৌশলগত ধৈর্য, অর্থনৈতিক চাপ এবং মজুদ ব্যবস্থাপনার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে,যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।