চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের তালিকা হচ্ছে,দেশব্যাপী অভিযান শুরু শিগগিরই।

0 ৯০০,০০৪

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে এই অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথা জোর দিয়ে বলেন তিনি। তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পুলিশকে সম্পূর্ণ ‘নির্মোহ’ থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকারের প্রধান লক্ষ্য দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিনির্ভর নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পুলিশকে আইনানুগভাবে চলার এবং কোনো ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারী নির্দেশ পালন না করারও কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ে ‘চেইন অব কমান্ড’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা যেন ঊর্ধ্বতনকে ডিঙিয়ে সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার বা আইজিপি যেকোনো স্তরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

এদিকে ঢাকার যানজট নিরসনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ডিএমপি কমিশনারকে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে এয়ারপোর্ট সড়ক হয়ে সচিবালয়মুখী ভিআইপি সড়কে এসব যান চলাচল সীমিত করা হবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে অন্য সড়কেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যানজটের পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতা ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাকেও দায়ী করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!