ঘূর্ণিঝড় মোখা”র প্রভাব পড়েনি উপজেলা সন্দ্বীপে।

চরম আতঙ্কে থাকলেও ঘূর্ণিঝড় মোখা’র কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি সন্দ্বীপ উপজেলায়।জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে মাটি দেওয়া হয়।আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রদত্ত বিপদ সংকেত অনুযায়ী জনগণ সতর্কতা অবলম্বন করে।৮ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করার পর চরাঞ্চল থেকে গবাদিপশু সরিয়ে আনা হয়েছে।তবে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন তেমন আসেনি।ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ১৬২টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ২১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল।এছাড়াও রেড ক্রিসেন্টের প্রায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত ছিল।

শনিবার দুপুর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত আকাশ গুমোট অবস্থায় ছিল।রবিবার গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়েছে। দুপুর থেকে থেমে থেমে দমকা বাতাস দেখা যায়।নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।বেশিরভাগ সময় নদী শান্ত ছিল।শনিবার দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়।সন্ধ্যার পর থেকে বেড়িবাঁধের বাইরে থেকে কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়।

বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা যায়,দ্বীপের সর্ব দক্ষিণে সারিকাইত ইউনিয়নে ৪ শ মাইটভাঙ্গায় ২ শ,মুছাপুরে ১ শ, উরিরচরে ৫ শ জনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চার হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করে।তবে এদের বেশিরভাগ রাতে আবার নিজনিজ বাড়ি ফিরে আসে।উরিরচর ইউনিয়নে রবিবার পর্যন্ত কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে।উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নে শুকনো খাবার,মোমবাতি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

উরিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন,শনিবার দুপুর থেকে আমার ইউনিয়নের মুজিবকিল্লাগুলোতে কয়েকহাজার গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে।এছাড়াও প্রায় চার-পাঁচ শ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।রবিবার রাতেও ৪০/৫০ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে তাদের মাঝে চিড়া,গুড় ও মোমবাতি দিয়েছি।

বঙ্গোপসাগরের পার্শ্ববর্তী সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির জানান,৮ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করার পর প্রায় ৩/৪ শ মানুষ আশ্রয় নেয়।তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।এখনো পর্যন্ত কিছু খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)সম্রাট খীসা জানান,ঘূর্ণিঝড় মোখায় সন্দ্বীপের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।আমরা বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরে থেকে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসি।এখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসা-যাওয়ায় ছিল।

Comments (০)
Add Comment