ঢাকা টু সন্দ্বীপ হঠাৎ বন্ধ বিআরটিসির এসি বাস সার্ভিস,বিপাকে পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ফেরী সার্ভিস চালুর সঙ্গে চালু হয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি)এসি বাস।কয়েক মাসের মধ্যেই নাব্যতা সংকট, যাত্রী সংকট এবং ভাঙা রাস্তায় চলাচলজনিত সমস্যা দেখিয়ে গত একমাস যাবৎ বন্ধ আছে সার্ভিসটি।কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ সার্ভিসটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা।

ঢাকার আবদুল্লাহপুর বিআরটিসি কাউন্টার থেকে যেমন হতাশ হয়ে ফিরছেন যাত্রীরা,তেমনি সমুদ্রপথে সন্দ্বীপে এসে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হচ্ছেন অনেক পর্যটক।

২০২৫ সালের ২৪ মার্চ বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে গুপ্তছড়া ঘাট পর্যন্ত ফেরী সার্ভিসের উদ্বোধনের দিনই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় বিআরটিসির এসি বাস। পরিকল্পনা অনুযায়ী,ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে রাত ১০টায় এবং গুপ্তছড়া ফেরীঘাট থেকে সকাল ১০টায় বাস ছেড়ে যেত।ফেরীর সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে বাস চলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি।

বিআরটিসি সূত্রে জানা যায়,বর্তমানে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে ফেরী প্রবেশের খালে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরী চলাচল এখন পুরোপুরি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করছে।কখনো ফেরী ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।আবার কখনো খালের মুখে জমাট পলিমাটিতে আটকে পড়ে।ফলে ঢাকাগামী বাসগুলোর সময়ের সঙ্গে ফেরী চলাচল মেলানো যাচ্ছে না।এতে যাত্রীরা অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

অন্যদিকে,সন্দ্বীপ ও বাঁশবাড়িয়ার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর সরু ও ভাঙা অবস্থার কারণে বড় বাস চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে,ফেরীর সঙ্গে সংযোগ রেখে ছোট বাস বা মিনিবাস চালু থাকলে যাতায়াত কিছুটা সহজ হতে পারত।

ফেরীর সঙ্গে সময় মিলিয়ে সার্ভিস নিয়মিত রাখা যেত কি না এমন প্রশ্নে বিআরটিসির প্রশাসন ও অপারেশন বিভাগের পরিচালক রাহেনুল ইসলাম বলেন,বর্তমানে নাব্যতা বজায় রাখার জন্য গুপ্তছড়া খালে ড্রেজিং চলছে।আশা করি শীগগিরই ফেরীর শিডিউল অনুযায়ী আগের মতো নিয়মিত বাস চলাচল শুরু করতে পারবো।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ওমর ফয়সাল বলেন,ঢাকা থেকে সন্দ্বীপে সরাসরি বাস যোগাযোগ পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।নিয়মিত বাস চলাচল অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন,শিক্ষার প্রসার ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

Comments (০)
Add Comment