এক ব্যাগ রক্তদানে বাঁচবে একটি প্রাণ

0 ১৭১

জসিম উদ্দিন রুবেলঃ এক ব্যাগ রক্তদানে বাঁচবে একটি প্রাণ এমন স্লোগান প্রতিষ্ঠিত লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগন্জ থানার ১২ নং চরশাহী ইউনিয়নের ০৫ নং তিতারকান্দি ওয়ার্ডের তিতারকান্দি ব্লাড ডোনার্স ক্লাব।তিতারকান্দি ব্লাড ডোনার্স ক্লাবে পরিচালনায় রয়েছে বেশ কিছু উদ্যমী যুবক।তাদেন উদ্দেশ্য হলো থ্যালাসেমিয়া রোগীসহ অগণিত মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে যেসব হৃদয়বান স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন,তাদের দানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং উদ্বুদ্ধ করতে।জনগণকে রক্ত দানে উৎসাহিত করা,সেচ্ছায় রক্তদাতা সচেতন করা,নতুন রক্তদাতা তৈরি করা ও নিরাপদ রক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করা।প্রতি ব্যাগ রক্ত জোগাড় করতে থ্যালাসেমিয়া রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।রক্ত না দিতে পারলে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের বাঁচানো সম্ভব নয়।কোনো থ্যালাসেমিয়া রোগীর মাসে এক ব্যাগ কোন রোগীর দুই ব্যাগ এমনকি তিন ব্যাগ রক্তেরও প্রয়োজন হয়।এমব রোগী ও তাদের অভিভাবকরা করোনা মহামারির পাশাপাশি রক্তের চিন্তায় বিভোর হয়ে আছেন।যে কোনো সুস্থ-সবল মানুষ রক্তদান করলে রক্তদাতার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না।এমনিতেই রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চার মাস পরপর নষ্ট হয়ে যায়।তাই অকারণে নষ্ট করার চেয়ে তা স্বেচ্ছায় অন্যের জীবন বাঁচাতে দান করলে মানুষের জীবনও বাঁচানো যায়। সামান্য পরিমাণে রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ।নিয়মিত রক্তদান করা একটি ভালো অভ্যাস।রক্তদান করা কোনো দুঃসাহসিক বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কাজ নয়।বরং এর জন্য একটি সুন্দর মন থাকাই যথেষ্ট।রক্তদাতার শরীরের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না,বরং নিয়মিত রক্তদান করলে বেশ কিছু উপকারও পাওয়া যায়।শরীরে রক্তকণিকা তৈরির কারখানা হলো অস্থিমজ্জা।নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরির চাপ থাকে।তে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে।এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে।রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়।ফলে হৃদরোগ,স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। হার্ট ভালো থাকে এবং রক্তদাতা সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকেন।রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না,তা জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না।মানবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সব দৃষ্টিকোণ থেকেই রক্তদাতা অনাবিল আনন্দ অনুভব করেন এবং সামাজিকভাবে বিশেষ মর্যাদাও পান।গ্রহীতা আর তার পরিবার চিরদিন ঋণী থাকেন তার জীবন বাঁচানোর জন্য।দাতার জন্য এটা যে কি আনন্দের,তা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.